মেহেদী হাসান, খুলনা
কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হচ্ছে সমুদ্রিক মাছের শুঁটকি। ভেজালমুক্ত শুটকি তৈরীর ব্যবসায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন খুলনার নিরাপদ বিশ্বাস। তার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই ব্যবসায় কর্মসংস্থান ও বাড়াতে পারবে বলে মনে করেন তারা। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের এক পাশে কেউ কাঁচা মাছ রোদে শুকাতে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ বা আবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। মোটকথা শুঁটকি সেডে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। কিন্তু এসব শুঁটকি উৎপাদন কিংবা বিপণন ব্যবস্থায় লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের নিরাপদ বিশ্বাস বাড়ির আঙিনায় সমুদ্রিক মাছের শুঁটকি তৈরি করে ইতিমধ্যে ব্যাপাক সাড়া ফেলেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি করছেন। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের। দৈনিক দুই বেলা খাবার ও ৫শ টাকা করে হাজিরা পেয়ে খুশি শ্রমিকেরা। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দিনভর মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত শুঁটকি শুকানোর কাজ চলে। এই মাছ শুকানোর কাজে শুধু লবণ ব্যবহার করা হয়। এতে অন্য কোনো মেডিসিন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। নিরাপদ বিশ্বাসের শুঁটকি ব্যবসার প্রসার ঘটাতে মৎস্য অধিদপ্তর সব প্রকার সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে জানান ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে বেড়িয়ে আসতে নিরাপদ বিশ্বাস কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি তৈরি করে বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।