খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন ১৪নং ওয়ার্ডের রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই নারীকে মারধরসহ শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা খান আলী সিদ্দিকি সাগরের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত দুই নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন, শেখ জামাল হোসেনের স্ত্রী সোমা বেগম (৩৫) ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ডেইজি বেগম (৩৮)। এ বিষয়ে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ও অজ্ঞাত ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আড়ংঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মৃত খান সবুরের ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা খান আলী সিদ্দিকি সাগর (৪০), শেখ সিরাজের ছেলে শেখ শামিম (১৮) ও খান আলী সিদ্দিকি সাগরের স্ত্রী মনোয়ারা ওরফে রুবি (২৮)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বে হইতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে শত্রুতা চলে আসছে। গত ৫ ডিসেম্বর রাতে নিজস্ব জমি জমা ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলাপ আলোচনাকালে অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে সোমা বেগম (৩৫) কে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে এবং ঠেকানোর জন্য ডেউজি বেগম আসলে তার পরনের কাপড় টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানী করে। তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন আসলে অভিযুক্তরা জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। আহত ডেইজি বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা খান আলী সিদ্দিকী সাগর কৌশলে আমার বড় ছেলের স্ত্রীর নগ্ন ছবি তুলে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন । এছাড়াও বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ায় আমার ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিছুদিন আগে আবার সে আমার কাছে টাকা দাবী করলে আমি দিতে না পারায় আমাদের উপর এই আক্রমণ ও শ্লীলতাহানী করে। প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আহত ডেইজি বেগমের ছেলে ছাত্রদল নেতা শেখ ইমন বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও আমাদের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা খান আলী সিদ্দিকী সাগর তার বাহিনী নিয়ে এখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মূল হোতা সাগরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুহিনুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেয়ে আহতদেরকে আমি নিজে দেখে এসেছি এবং তাদের কথা শুনেছি। অবশ্যই তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।