নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পণ্য বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়া অভিযুক্তরা পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলেও জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ি বাজারে মেসার্স মামা ভাগ্নে ট্রেডার্সে এ ঘটনা ঘটে।মেসার্স মামা ভাগ্নে ট্রেডার্সের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে স্মাট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে পণ্য বিক্রি চলছিল। এসময় কৃষ্ণনগর গ্রামের জহুরুল ইসলাম, ছোট মৌকুড়ি গ্রামের অনিক, নবগ্রামের লুলু শেখ, বড় মৌকুড়ি গ্রামের রাসেলসহ ৫/৭ জন যুবক এসে স্মাট কার্ডে মালামাল বিক্রি করতে নিষেধ করেন। সরকারি নিয়মে মালামাল বিক্রি করার বিষয়টি জানালে তারা আমাকে মারধর করে টিসিবির গোডাউনে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে আমি বিষয়টি আমার মালিককে জানাই।’সারুটিয়া ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার ও মেসার্স মামা ভাগ্নে ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর সোহাগ হোসেন বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে সারুটিয়া ইউনিয়নে ১১’শ ফ্যামিলি কার্ড রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ আছে যে প্রতিটি স্মাট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য সামগ্রী বিতরণ করতে হবে। কার্ড ছাড়া কাউকে পণ্য দেওয়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ নিষেধ। অথচ বৃহস্পতিবার সকালে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এসে স্মাট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য দিতে নিষেধ করেন। তিনি আরও বলেন, চারজন যুবকের মধ্যে একজন সমন্বয়ক ও আরেকজন জামায়াতের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের লোকজন তাদের কথা না শুনলে তাদের মারপিট করে বিক্রয় কেন্দ্রে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনওকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে তালা খুলে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেন। এর আগেও ওই যুবকেরা একাধিকবার টিসিবির পণ্য বিক্রিতে বাঁধা দিয়েছে যা এলাকাবাসী অবগত আছে।’সারুটিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক জুয়েল রানা বলেন, ‘টিসিবির পণ্য নিয়ে এলাকায় ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় নিয়মনীতি মেনে পণ্য পাওয়ার সুযোগ হলেও কিছু সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা বাধা এবং কখনো গোডাউনে তালা লাগিয়ে দেয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’উপজেলা ফুড ইনস্পেক্টর ও সারুটিয়া ইউনিয়নের টিসিবির ট্যাগ অফিসার সবুজ হোসেন জানান, ‘ডিলারের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় বিক্রয় কেন্দ্রটির তালা খুলে পুনরায় পণ্য বিক্রি শুরু করা হয়।’ এর আগেও অভিযুক্তরা পণ্য বিক্রিতে বাঁধা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা দাস জানান, ‘ডিলারের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি নিয়মে পণ্য বিক্রিতে বাঁধা দেওয়া জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’