1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. shantokh@gmail.com : Sharif Azibur Rahman : Sharif Azibur Rahman

পৌরসভায় ৩টি প্রকল্পের ২৮ লাখ টাকার সিংহভাগই নয়ছয়ের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৪৮ বার সংবাদটি পাঠিত
পৌরসভায় ৩টি প্রকল্পের ২৮ লাখ টাকার সিংহভাগই নয়ছয়ের অভিযোগ

শফিয়ার রহমান,মণিরামপুর(যশোর)

মণিরামপুর পৌরসভায় ৩টি প্রকল্পের ২৮ লাখ টাকার সিংহভাগই কোটেশনের মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদারের নেতৃত্বে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ টাকা নয়ছয়ে ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে টেন্ডারের পরিবর্তে কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারের নামে নয়ছয় করে দায়সারা ভাবে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে পৌর নাগরিকের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চলন সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানাযায়, গত বছর অক্টোবর মাসে পৌরসভার ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করে। সাধারন তহবিল থেকে ৩টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ নেয়া হয় ২৮ লক্ষ টাকা। ৩টি প্রকল্প মোহনপুর বটতলার পাশে মহাসড়কের ফুটপথের যাত্রী ছাউনি সংস্কার করে মিনি পার্ক করা। এবাবদ বরাদ্দ করা হয় ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অপর প্রকল্প পৌরসভার গেটের সামনে ফুটপথে পার্কিং টাইলসসহ নয়টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ৩২টি বৈদ্যুতিক বাল্ব ফিটিংস। এ জন্য বরাদ্দ হয় ৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সর্বশেষ প্রকল্প পৌর ভবনের সামনে পানির ফোয়ারা নির্মাণ, লাইটিংস ও আশপাশে ফুলের গাছ লাগানো। এ প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। নিয়ম রয়েছে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বান করতে হয়। টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু এখানে সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কোটেশনের মাধ্যমে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পছন্দের ৩ ঠিকাদারের (মেমার্স ফয়জুল ইসলাম, মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মোল্যা ট্রেডিং) নামে কাজ দেখিয়ে দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে মোহনপুর বটতলার পাশে মহাসড়কের ফুটপাতের যাত্রী ছাউনিটির টিনে রং করার পর ফ্লোরে পার্কিং টাইলস সেট করা হয়। স্থানীয় সহিদ নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ২ লাখ টাকার মাটি ভরাট করে সেখানে তিনি বালু ও খোয়ার ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করে সেই মাটি পৌর কর্তৃপক্ষ যাত্রী ছাউনির আশপাশ সমান করে সেখানে ফুলের গাছ ও একটি ছাতা বসিয়েছেন। যদিও ইতোমধ্যে ফুলের সব কটি গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে সেখানে মাটি ভরাটের নামে পৌরসভা থেকে ৫০ হাজার খরচ দেখানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশে পিলার বসিয়ে ফুটপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যাত্রী সাধারনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সব মিলিয়ে এ পার্কটি নির্মান করতে খরচ হতে পারে ২ লাখ টাকা। অথচ জানতে পারছি দুর্নীতির মাধ্যমে এ প্রকল্পের খরচ দেখিয়েছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৯ টি সিসি ক্যামেরা ও ৩৮ টি বাল্ব লাগানো হয়েছে। প্রতিটি বাল্বের বাজার মূল্য পাঁচ থেকে ছয়’শ টাকা। অথচ মূল্য দেখানো হয়েছে ১৮’শ টাকা। সিসি ক্যামেরার বাজার মূল্য প্রতিটি দুই থেকে আড়াই হাজার হলেও দেখানো হয়েছে প্রায় দ্বিগুন টাকা। এভাবেই দূর্নীতির মাধ্যমে সিংহভাগই লোপাট করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোটেশনে কাজ পাওয়া মেসার্স সুমি এন্টাপ্রাইজের মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, কাজটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তার লাইসেন্সের নামে নিয়ে নিজেরাই বাস্তবায়ন করেছে। একই কথা জানান মোল্যা ট্রেডিংয়ের মালিক মনিরুজ্জামান। তিন প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ও কার্যসহকারী আব্দুর রাশিদ তপু জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কোটেশনে কাজ হলেও তেমন অনিয়ম করা হয়নি। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের টাকা ছাড় করা হয়েছে। বাকী দুইটার কাজ সামান্য বাকী আছে। আশা করা হচ্ছে দুই একের মধ্যে শেষ হবে। তবে ভিন্ন কথা জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার। তিনি জানান, কোটেশনের এ তিনটি প্রকল্প গ্রহন করা হয় পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্নার আগ্রহে। তবে নিশাত তামান্না এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পানির ফোয়ারা, লাইটিং ও সিসি ক্যামেরা দ্রুত স্থাপনের জন্য বলা হয় পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে। সে মোতাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদারের মতামতের ভিত্তিতে কাজটি কোটেশনের মাধ্যমে করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি সেয়ার করে পাশে থাকুন

একই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved  2024
Design by JIT SOLUTION