ঝিনাইদহ অফিস
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বিয়ে করেননি এবং প্রেমিকার জায়গা দখল করতে দেয়নি কাউকে। সারা জীবনে যতো আয় রোজগার করেছেন তা সব দিয়ে বাড়ির পাশে নির্মাণ করেছেন মসজিদ। শুধু তাই নয় বেঁচে থাকতেই মায়ের কবরের পাশে নিজের কবরের জায়গা রেখেছেন গোলজার হোসেন। ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পৌরসভাধীন পারবতীপুর গ্রামে তার বাড়ি। স্নাতক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর বড় ছেলে হিসাবে সংসারের হাল ধরেন। ১৮ বছর বয়সে গ্রামের এক নারীকে পছন্দ করে তার সাথে সংসার করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ভালবেসে বন্ধুর মাধ্যমে চিঠি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাবও দেন ওই নারীকে। পরে ওই নারী বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে সেই থেকে আর বিয়ে না করে একাকী জীবন পার করছেন বৃদ্ধ গোলজার। যুবক বয়সে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হওয়ায় বুকভরা কষ্ট নিয়ে আছেন তিনি। মণ খাবার হলেই হাতে শুধু একটি রেডিও ও ক্যাসেট নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান গোলজার। এখন এই রেডিও ক্যাসেট ছাড়া যেন তার আপন বলতে আর কিছুই নেই। প্রেমিকার কথা মনে পড়লেই পুরাতন জরাজীর্ন রেডিওটির এ্যান্টিনা নেড়ে চেড়ে বিরাহের গান শোনেন তিনি। এতো বছর বয়সে শুধু গান নয় বেশ একের পর এক কবিতা লিখেই চলছেন। এই বয়সে তিনি কবিতা ও গান লেখাকে এলাকার মানুষ ভিন্নভাবে দেখছেন। অনেকে তার লেখা গান করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ বৃদ্ধ গোলজার হোসেনের ভালবাসা মর্যাদা স্বরুপ ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন। প্রেমিকার কথা মনে পড়লে কারও সাথে কোনো কথা না বলে বিকাল হলেই গোলজার ছুটে যান বাড়ির পাশে মাঠে। এছাড়া তিনি নিজেই গড়ে তোলা মসজিদে প্রতিদিন নিজেই আযান দেন এবং নিজেই ইমামতি করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে এখন কেবল আল্লাহর ভালবাসা চান বলে জানান গোলজার। মসজিদের পাশেই রয়েছে পিতা ইয়াসিন বিশ্বাস ও মা ছবিরণ খাতুনের কবর। এব্যাপারে চিন্তাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন জানান, ইসলামে বিয়ে করা একটা ফরজ কাজ। আগে তাকে ফরজ আদায় করতে হলে বিয়ে করতে হবে। এটা তার এক ঘেয়েমী ভাবনা থেকে তিনি এটা করছেন। তবে এরকম লোক কোটিতেও একটা মেলেনা।