ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পারলাট গ্রামে একটি মৎস্য খামারে (ডোবা) হামলা চালিয়ে ১৮ লক্ষ টাকার মাছ ও লক্ষাধিক টাকার মাছের খাবার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ঘটা বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,কোটচাঁদপুরে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি মোঃ আলতাফ হোসেন। মামলার আরজি স‚ত্রে জানা গেছে, ৪৭ নং পারলাট মৌজার সি.এস ০৩ নং এস.এ ০৪ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ৫৩১ নং দাগ এবং আর.এস ২৭২ নং খতিয়ানভুক্ত হাল ৬৪ নং দাগের পৈতৃক স‚ত্রে প্রাপ্ত ১৩৫৬ শতক ডোবায় দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন মোঃ আলতাফ হোসেন। গত ২২/০২/২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকা থেকে বিকেল ৩:০০ ঘটিকা পর্যন্ত স্থানীয় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে উক্ত ডোবায় প্রবেশ করে। এসময় আসামিরা বাদীর পাহারাদারদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ডোবা থেকে প্রায় ১৫০ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ (রুই, মৃগেল, কাতলা, সিলভার কার্প প্রভৃতি) ধরে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মাছের আনুমানিক বাজারম‚ল্য ১৮ লক্ষ টাকা। এছাড়া আরও ৫ লক্ষ টাকার দেশি প্রজাতির ছোট মাছ লুট করা হয়েছে বলে বাদী দাবি করেন। মৎস্য চাষি আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, মাছ লুটের পাশাপাশি তার গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবারও লুট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ৭২,৬০০ টাকার খৈল ৪০,২৫০ টাকার ফিড ১৩,৫০০ টাকার পালিশ অভিযুক্তরা এসব মালামাল জোরপ‚র্বক আলমসাধু ও বাইসাইকেলে করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় লিটন (৪২) ও সবুজ (৩৫)-সহ মোট ২৪ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দÐবিধির নিম্নোক্ত ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে: ১৪৩ ধারা: বেআইনি জনতা গঠন। ৪৪৭ ধারা: অনধিকার প্রবেশ। ৩৭৯ ধারা: চুরি। ৫০৬-খ ধারা: প্রাণনাশের হুমকি। ১০৯ ধারা: অপরাধে প্ররোচনা। বাদী মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, "আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি করেছে এবং আমাকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।" আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।











