জহুরুল ইসলাম
যশোর শহরতলীর কানাইতলা এলাকায় অবস্থিত ডেল্টা এলপিজি লিমিটেড নামে একটি স্যাটেলাইট বটলিং প্লান্টে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার ভরে বাজারজাত করার অভিযোগে সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।রবিবার মধ্যরাতে মিডিয়া কর্মীদের সাথে নিয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। ডেল্টা কোম্পানী বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে একটির স্থলে তিনটি ব্রান্ডের ভিন্ন নামের ব্যবহারিক গ্যাস সিলিন্ডার ভরে বাজারজাত করে আসছিল।গোপন স‚ত্রে এ অবৈধ কারবারের খবর পেয়ে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মামুন, কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই দেবাশীষ এবং এএসআই ফজলুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল মিডিয়া কর্মীদের সাথে নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ও মিডিয়া কর্মীদের সামনে মালিক পক্ষ একটি ব্রান্ডের অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারলেও বাকি দুটি ব্রান্ডের অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন । পুলিশ পরিদর্শক মামুন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, ভোক্তা অধিকার অথবা ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে অভিযান চালালে ভাল হয়। তবে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে কেনো অবৈধ মালামালগুলি আটক করলো না তার উত্তর না দিয়েই তিনি মোবাইলের লাইন কেটে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল স‚ত্র জানায়, মালিক পক্ষের কাছ থেকে পুলিশ বড় অংকের উৎকোচ নিয়ে অবৈধ মালামাল আটক না করে থানায় ফিরে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মিডিয়া কর্মীরা জানান, মালিক পক্ষের সাথে পুলিশের যে দফারফা হয়েছে তা অনুমান করা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদেরও ২০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালায় মালিকের ছেলে নাজমুল হোসেন । মিডিয়া কর্মীদের স‚ত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় স‚ত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্লান্টটির নিজস্ব অনুমোদন থাকলেও সেখানে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার নিপিল করে ডিলারের মাধ্যমে বাজারে ছাড়ার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, খুলনার জনৈক্ নুর ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এই অবৈধ কারবার পরিচালনা করে আসছেন।রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশের একটি টিম ওই প্লান্টে অভিযান চালায়। তবে রহস্যজনক কারণে তারা কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিয়েই প্লান্ট ত্যাগ করে চলে যায় । অভিযানের কিছুক্ষণ পর প্লান্ট মালিকের ছেলে নাজমুল হোসেন খুলনা থেকে যশোরে এসে পুলিশের সাথে দেনদরবার করেন বলে স্থানীয় স‚ত্রগুলো দাবি করেছেন। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরই আবার প্লান্টে গ্যাস নিপিলের কাজ শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই প্লান্টে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা বিভিন্ন নামী -দামি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার ভরার কাজ করছেন। সেখানে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে গভীর রাতে ঝুঁকিপ‚র্ণ পরিবেশে এই অবৈধ কাজ চালানো হচ্ছে, যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন অভিজ্ঞ মহল ।স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি করা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রæত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান , যে কয়টি ব্র্যান্ডের গ্যাস নিপিল করা হবে তার প্রত্যেকটির বিস্ফোরক লাইসেন্স লাগবে এবং নির্ধারিত সময়ে তা নবায়ন করতে হবে। এছাড়া ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র ও ইউনিয়ন বা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। তবে তবে ডেল্টা কোম্পানির মালিকের ছেলে নাজমুল হোসেন জানান, আমাদের কিছু কাগজপত্র এখনো হয়নি। তাই তিনি পুলিশ ও মিডিয়া কর্মীদের বিষয়টি ছাড় দেয়ার অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে ডেল্টা এলপিজি লিমিটেড এর মালিক নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইলে ফোন রিসিভ করেননি।













