মনিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে ১২ বছর বয়সী পুতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে দাদা লুৎফর গাজী (৬০) কে আটক করেছে মনিরামপুর থানা পুলিশ। ঘটনাটি গতকাল রাত ১১ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে ঘটে। ধর্ষনের অভিযোগে মামলা এবং ধর্ষককে আটকের বিষয় টি নিশ্চিত করেছে মনিরামপুর থনার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী।ধর্ষক লুৎফর গাজী ওই গ্রামের জামির আলীর ছেলে।
ধর্ষনের শিকার শিশুর দাদি ও ধর্ষকের স্ত্রী খোদেজা বেগম জানান, আমার পুতনি অনেকদিন আগে থেকে আমাকে বিষয় টা জানিয়েছিলো আমি তার পর আমার স্বামীকে বলেছি পুতনি বড় হয়েছে তার গায়ে এ ভাবে হাত দিবা না তার কাছে ও যাবা না তারপর থেকে বিষয় টা চুপ ছিলো গতকাল আমার পুতনির চাচতো নানি বেড়াতে আসলে পুতনি তার সাথে বিষয় টি বলেছে তারপর এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশ এসে আমার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ষনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণ করেছে কিনা জানি না তবে আমার স্বামী এ ধরনের ঘটনা এর আগেও একাধিক বার করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, শিশুটির বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিন বছর আগে মা তাদের দুই ভাই বোনকে ফেলে চলে যান। মাসখানেক আগে দাদা লুৎফর গাজী একবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। এছাড়া একাধিকবার সে শিশুটির স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেছে। বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানার পর পারিবারিকভাবে লুৎফর গাজীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে। গত রোববার শিশুটির চাচাত নানী তাঁদের দেখতে আসেন। মেয়েটি দাদার বাড়িতে থাকতে আপত্তি তুলে নানীর সাথে চলে যেতে চায়। নানী কারণ জানতে চাইলে সে তার সাথে ঘটে যাওয়া দাদার কুকর্মের কথা ফাঁস করে। এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা পুলিশের কানে পৌঁছায়। পরে সোমবার রাত ১১টার দিকে থানা পুলিশ গিয়ে লুৎফর গাজীকে আটক করে শিশুটিকে হেফাজতে নেয়।
শিশুর চাচতো নানি ও মামলার বাদী রাশিদা খাতুন বলেন, আমি আমার জামাইয়ের বাড়িতে বেড়ালে আসলে আমার নাতি আমার সাথে দেখা করতে আসে, এসে সে বলে তার দাদা তার শরীরে খারাপ ভাবে স্পর্শ করে এবং আগেও এমন করেছে সে এটা শুনার পর আমি আমার জামাই কে বিষয় টা জানালে সে এলাকাবাসীকে নিয়ে লুৎফর রহমান কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, রাতেই শিশুটির চাচাত নানী বাদী হয়ে দাদা লুৎফর গাজী বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতে তোলা হবে।