স্টাফ রিপোর্টার,মণিরামপুর
যশোরে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারকে কেন্দ্র করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যশোর জেলার রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সাধারণ ভোটার'রা। ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অবৈধ অস্ত্রকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। তবে বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত। যশোর জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত বছরে যশোর জেলায় ৬৭টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ সময়ে মোট ২হাজার ৮৪৩টি মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে রয়েছে ৬০টি হত্যা, ৫টি ডাকাতি, ২১টি দর্সীতা, ৩২টি অস্ত্র ও ১৭টি বিস্ফোরক মামলা। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে"ই এখন পর্যন্ত জেলায় ৯টি হত্যাকাণ্ড এবং ৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। গত ৫ই জানুয়ারী যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগীকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর আগে ৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো:আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সূত্র মতে, যশোর জেলায় বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। উদ্ধার না হওয়া এসব অবৈধ অস্ত্র ক্যাডারদের হাতে হাতে ঘুরছে, যার একটি অংশ সীমান্তবর্তী পথ দিয়ে চোরাইভাবে প্রবেশ করছে এখানে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিনে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন হবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ স্থানীয় মানুষের।যশোরের এক বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক গডফাদার বাহিনীর হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার বাড়ছে। অনেক পুরনো ক্যাডার আত্মগোপনে থেকে কিংবা প্রকাশ্যেই গুরুতর অপরাধ করছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। যশোর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁঁকি বেশি। নির্বাচনের সময় এসব অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার আরও বাড়ে। আমরা বারবার অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। যশোরের আরও এক রাজনৈতিক দলের নেতা বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। দ্রুত বিশেষ অভিযান প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সব পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শহর ও গ্রামে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও অভিযান চলছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।











