ঝিনাইদহ অফিস
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি(এমএল) জনযুদ্ধের আঞ্চলিক নেতা হানিফ উদ্দিন ওরফে হানেফ মন্ডলসহ ৩জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২জনকে আটক করেছে র্যাব। সোমবার ঝিনাইদহ শহর ও ঢাকার গাজীপুর এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাইম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটককৃত দুইজন হলেন ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ছানোয়ার হোসেন সনুর ছেলে আবু সাইদ (৩৯) ও একই উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের আনজের হোসেনের ছেলে আনারুল ইসলাম রাজ (৩৬)। র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাইম জানান, ঝিনাইদহের আলোচিত ট্রিপল মার্ডারে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শহরের সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে আবু সাইদ ও গাজিপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সোনাতলা থেকে আনারুল ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসবাদের পর ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে। এদিকে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকূপায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করে। সোমবার সকালে এ মামলাটি দায়ের করেন নিহত হানিফের ছোট ভাই হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম ইশা। শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, গত শুক্রবার রাতে শৈলকূপা উপজেলার রামন্দ্রপুর শ্মশানঘাটে যে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। এঘটায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন নিহত হানেফের ভাই। অপরদিকে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিহত চরমপন্থী হানেফ ছিলো ফাঁসির আসামী। ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমির কাছে লোক হওয়ায় তাকে সাধারণ ক্ষমা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। পারিবারিক সম্পর্কের রেশ ধরে হানেফ ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমীর ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেন। কারন ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হানেফকে ব্যবহার করে সাবেক সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কারণ হানেফ জেলে বসেই তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রন করে সমীকে এমপি বানায়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি জনযুদ্ধের হানেফ বাহিনীর ভয়ে সেসময় কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে সাহস পেতেন না। তারা ঘোষনা দিয়ে সেসময় সাংসদ সমির পক্ষে ভোট নিয়ন্ত্রন করতো। যে কারনে পুরস্কার স্বরুপ সংসদ সদস্য সমির বদন্যতায় বঙ্গভবন কানেকশনে একাধিক মামলায় ফাঁসিসহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হানেফ ১৪ বছর কারাভোগের মাথায় বিশেষ ক্ষমায় ৩ বছর আগে সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর এই চরমপন্থী নেতা মৎস্যজীবীলীগের হরিনাকুন্ডু উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় এমপির ছত্রছায়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করতে শুরু করে হানিফ। সেই থেকে কায়েতপাড়া বাঁওড় সরাসরি হানেফের নিয়ন্ত্রনেই ছিলো। আর এই বাঁওড় কেন্দ্রিক দখল দারিত্ব নিয়ে শেষমেষ হত্যার শিকার হয় হানেফ এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার আহাদননগর গ্রামের রাহাজ উদ্দিনের ছেলে ও চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধ লাল পতাকার আঞ্চলিক প্রধান ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা হানেফ উদ্দিন ওরফে হানিফ মন্ডল, তার শ্যালক লিটন মিয়া(৩৮) ও হানেফের দেহরক্ষী কুষ্টিয়া ইবি থানার পিয়ারপুর গ্রামের আরজান হোসেনের ছেলে রাইসুল ইসলাম রাজু (২৮)কে শুক্রবার রাতে শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ত্রিবেনী শ্মশান খাল এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর কালু গ্রুপের প্রধান কমরেড কালু হোয়াটসআপে সাংবাদিকদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে।