ঝিনাইদহ অফিস
ঝিনাইদহ জজ আদালতের সাবেক জিপি এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষকে ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঔষুধ ফার্মেসী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মঙ্গলবার আদালত জামিন না মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, গত ২৯ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনার পলায়নের পর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামানের ঔষুধ ফার্মেসী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে সদর থানায় এই মামলা করেন। যার মামলা নং-৩৩। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শহরের আক্তার ফার্মেসীতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মীরা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে দোকানে থাকা ঔষুধ সংরক্ষনের একটি ফ্র্রিজ, দোকানের লাগানো এসি ও কম্পিউটার ভাংচুর করা হয়। সন্ত্রাসীরা দোকানে থাকা কর্মচারীদের মারপিট করে। এসময় দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। যার ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা। মামলায় ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম (ফোটন), পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান, জেলা যুবলীগের আহবায়ক আশফাক মাহমুদ জনসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩শ জনকে আসামী করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু হুকুম দিয়ে দোকান ভাংটুর ও নেতাকর্মীদের দিয়ে লুটপাট করেন বলে দাবী করা হয়। এই মামলায় জিপি এ্যাডভোকেট বিকাশ উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারুক আজমের আদালতে তিনি হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ঝিনাইদহ জজ আদালতে কর্মজীবন শুরু করেন এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ। স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর বদন্যতায় তিনি জিপি হিসেবে নিয়োগ পান এবং সরাসরি জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত পড়েন।