ঝিনাইদহ অফিস
ঋতুবৈচিত্রের এই বাংলাদেশে একেক ঋতুতে একেক রূপ নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতি। শীতের শেষ ও বসন্তের আগমনী ঘটতে শুরু করেছে। তারই বার্তা দিচ্ছে সজনের ফুল। গাছে গাছে শিমুল পলাশের সাথে সাজনের ফুলগুলো প্রকৃতিকে সাজিয়েছে আপন মহিমায়। প্রাকৃতিক সোন্দর্য নিয়ে সাদা ফুলের বর্ণিল সাজে সেজেছে শষ্য ভান্ডার খ্যাত ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চল। প্রকৃতি সেজেছে যেন তার আপন মহিমায়। বাড়ির আনাচে-কানাচে ও রাস্তার পাশে থাকা সজিনার গাছগুলো থোকায় থোকায় সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। মৌ মৌ করছে চারপাশ। সজিনা গাছের ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফুল আর ফুল। আগে সজিনা গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তারপর পাতাশূন্য ডালে থোকা থোকা সাদা ফুলের শোভা দেখে সকলেই মহিত হয়। সজিনা বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বৃক্ষ। অলৌকিক গাছ হিসেবে সজিনা পরিচিত। ঝিনাইদহের বিভিন্ন জায়গায় সজনের সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে । রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, পুকুর পাড়ে লাগানো গাছে গাছে ক’দিন পরেই বাতাসে দোল খাবে সজনে। প্রত্যন্ত অঞ্চলজুড়ে যা মানুষের অতি প্রিয় খাবার। হাজরা গ্রামের বোরাক ডাক্তার বলেন‘এখন অনেকে বাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করে হাট-বাজারে বিক্রি করেন। প্রথমদিকে দামটা একটু বেশি থাকলেও পরে কমতে শুরু করে। ’শুধু গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছেই নয়, শহরের মানুষের কাছেও সজনে ডাঁটার ব্যাপক কদর রয়েছে। তাছাড গ্রাম বাংলার সর্বত্র সজনে, সজনের পাতা ও ফুল নি:সন্দেহে একটি পুষ্টিকর নিরাপদ খাবার। সজনে গাছের ছাল ও পাতা ঔষধি হিসেবে ব্যবহারও বহুল পরিচিত। বিনা পরিশ্রমে শুধু একটি ডাল সংগ্রহ করে বাড়ির আনাচে কানাচে, রাস্তার পাশে লাগিয়ে রাখলেই কিছু দিনের মধ্যেই গাছ বড় হয়ে যায়। দেখতেও সজনে গাছ খুবই দৃষ্টিনন্দন। সজনে গাছের অতুলনীয় গুণ বিষয়টি বিবেচনা করে । জেলার ৬টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভার সব অঞ্চলে শত শত সজনে ডাল বসত বাড়িতে রোপণ করে অনেকেই বাড়তি আয় করে থাকেন। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, সজনে ডাটা ঔষধে গুনে ভরা একটি সবজি। তিনি সজনে ডাল লাগানো কার্যক্রমকে বাস্তায়ন করতে এলাকার তরুন, যুবক ও কৃষকদের সাথে সজনে গাছ এর গুণাগুণ ও সজনে খাওয়ার গুরুত্বারোপ করে থাকি।