ঝিনাইদহ অফিস
অপারেশন ডেভিল হান্ট চলা অবস্থায় ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আংতক বিরাজ করছে। কায়েতপাড়াা বাঁওড়ের দখল করাকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে বাঁওড় পাড়ের গ্রাম হরিণাকুন্ডুর নারায়নকান্দি গ্রামের মাঠে নতুন করে ৪টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আতংক সৃষ্টির জন্য ট্রিপল মার্ডারের পরেই শনিবার রাতে নতুন করে বোমা বিষ্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কে বা কারা বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে পুলিশ কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। এদিকে জাসদ গণবাহিনী নামে জাসদের কোনো সংগঠন নেই: জাসদ ঝিনাইদহে তিনজনকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) গণবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার নাম এসেছে। এ ঘটনায় জাসদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাসদ গণবাহিনী নামে জাসদের কোনো সংগঠন নেই। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) রাতে দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের পাঠানো বিবৃতিতে এমনটি জানানো হয়েছে। বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়। অসিত সিংহ নিজেও তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিবৃতিটি পোস্ট করেছেন। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে,ঝিনাইদহে তিনজন ব্যক্তিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় কয়েকটি মিডিয়ায় জাসদ গণবাহিনী নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তির তৈরির সম্ভাবনা আছে। জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, জাসদ গণবাহিনী নামে জাসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নেই। জাসদ রাজনৈতিক, আদর্শিক, সাংগঠনিকভাবে কোনো ধরনের চরমপন্থা, চরমপন্থী কোনো সংগঠন, সশস্ত্র তৎপরতা, সশস্ত্র সংগঠনকে অনুমোদন করে না, সমর্থন দেয় না। জাসদের বিবৃতিতে কোনো ধরনের চরমপন্থী বা সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে জাসদের নাম যুক্ত না করে মিডিয়া এবং সাংবাদিকগণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। পুলিশ সুত্র থেকে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার কায়েতপাড়া বাঁওড়ের দখলকে কেন্দ্র করে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত চরমপন্থি নেতা হানিফ মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ছিলেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় তার ফাঁসির আদেশ হয়। উচ্চ আদালতেও ফাঁসির রায় বহাল থাকলে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের আমলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের বিশেষ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে হানেফ এলাকায় ফিরে আসেন এবং মৎস্যজীবী লীগের হরিনাকুন্ডু উপজেলা কমিটির সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করতে শুরু করেন। হাসিনা সরকারের পতন হলে দুর্ধর্ষ হানিফ অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করেন। সুত্রটি আরো জানায়, শুক্রবার রাতের ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে রয়েছে আলমডাঙ্গার কায়েতপাড়া বাঁওড়। ওই বাঁওড়ে বছরে কোটি টাকার উপরে মাছ চাষ হয়। মৎস্যজীবী লীগ নেতা ও পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি জনযুদ্ধ এমএলের আঞ্চলিক প্রধান হানিফ মন্ডল বাওড়ে মাছ ধরা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে এলাকায় বিবাদমান একাধিক অন্ডারওয়াল্ড গ্রæপের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই সুত্র ধরেই হানিফসহ তার শ্যালক লিটন ও দেহরক্ষী রাইছুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই কায়েতপাড়া বাঁওড় নিয়ে গত ৩০ বছরে প্রায় অর্ধশত মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন। হরিণাকুন্ডুর সাধরণ মানুষের ভাষ্যমতে, চরমপন্থি হানিফের বিরুদ্ধে হরিণাকুন্ডুর কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান, তিওরবিলা গ্রামের লুৎফর রহমান, তাহেরহুদার আব্দুল কাদের ও পোলতাডাঙ্গার ইজাল মাষ্টারসহ শতাধিক মানুষকে গুলি ও গলাকেটে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে ট্রিপল মার্ডারের পরে শনিবার গভীররাতে হরিণাকুন্ডুর তাহেরহুদা ইউনিয়নের নারায়নকান্দি গ্রামে আতংক সৃষ্টির জন্য নতুন করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। হরিনাকুন্ডু উপজেলার নারায়নকান্দি, পোলতাডাঙ্গা, কায়েতপাড়া এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফতেপুর, শ্রীনগর ও রামদিয়া এই ৬ গ্রামের উপর কায়েতপাড়া বাঁওড়টি অবস্থিত। বাঁওড়ে তালিকাভূক্ত মৎস্যজীবীরা মাছ চাষ করে থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাঁওড়টি চরমপন্থীরা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এক সময় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি হক গ্রæপের আঞ্চলিক নেতা ক্রসফায়ারে নিহত বাহিনী প্রধান মফিজের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধের নিহত হানিফের হাতে। এলাকাবাসীদের ধারনা বাঁওড় কেন্দ্রিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে হানিফসহ ট্রিপল মার্ডার সংঘটিত হয়েছে। শৈলকূপার সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার বর্মন জানিয়েছেন, রোববার দুপুর পর্যন্ত হত্যার সাথে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। সেই সাথে হত্যা মামলাও হয়নি। তবে প্রকৃত হত্যাকারীদের আটক করতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা, হরিণাকুন্ডু, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ইবি থানা এলাকায় জোরালো ভাবে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্যঃ চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধ লাল পতাকার আঞ্চলিক প্রধান ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা হানিফ উদ্দিন ওরফে হানেফ মন্ডল, তার শ্যালক লিটন মিয়া ও হানেফের দেহরক্ষী রাইসুল ইসলামকে শুক্রবার রাতে শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ত্রিবেনী শ্মশান খাল এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর কালু গ্রুপের প্রধান কমরেড কালু হোয়োটসআপে সাংবাদিকদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে।