তাজাম্মূল হুসাইন
যশোরের মনিরামপুর প্রেসক্লাবের তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক তাজাম্মূল হুসাইনকে মারধরের ঘটনা সাড়া ফেলেছিল উপজেলা জুড়ে।সাংবাদিককে মারধরের মতো নৃশংস কাজ ক্ষোভের জন্ম দেয় সাংবাদিক মহলসহ সুধীজনদের মনে। এরই প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের চাপে গত ২১ জানুয়ারী সাংবাদিক তাজাম্মূল হুসাইন বাদী হয়ে মনিরামপুর পৌরশহরের দূর্গাপুর গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে প্রতারক বুলবুল আহম্মেদ বুলির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নাম্বার ১৫। তবে অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার না হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বুলি। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারী পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মনিরামপুর বাজারের দক্ষিণ মাথার ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের সামনে পৌছুলে সাংবাদিক তাজাম্মূল হুসাইনকে একা পাইয়া আসামী বুলবুল আহম্মেদ বুলি তার জামার কলার ধরিয়া এলোপাথাড়ী ভাবে মারপিট করিতে থাকে। একপর্যায়ে আসামীর পকেটে থাকা একটি ধারালো চাকু বের করিয়া তার গলা বরাবর পোচ দিতে উত্তাত্ত হইলে সাংবাদিক তাজাম্মূল হুসাইন মাথা নিচু করিয়া বাধা প্রদান করে। ওই সময় আসামী বুলবুল আহম্মেদ বুলির ধারলো চাকু তার বাম কানের নিচে লাগিয়া রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এসময় সাংবাদিক তাজাম্মূল হুসাইন জীবন রক্ষার্থে ডাক চিৎকার করিলে তার সহকর্মীরা আগাইয়া আসিলে আসামী বুলি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রæত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে সত্যতা পায়। ওইদিন রাতেই সাংবাদিক তাজাম্মূল হুসাইন বাদী বুলবুল আহম্মেদ বুলির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২/৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে মোটা অংকের অর্থের চুক্তি করে ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করেন প্রতারক বুলবুল আহম্মেদ বুলি। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চাকরি হলে কৌশলে জিম্মি করে চুক্তির সমুদয় টাকা আদায় করেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো প্রতারণা করে আসছেন বুলি। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে বর্তমানে বুলবুল আহম্মেদ বুলিও ক্ষমতার পালাবদল করে অন্য একটি গ্রুপের ইন্দনে চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, আসামী বুলবুল আহম্মেদ বুলি জামিনে আছে। তবে প্রতারণার কোন অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।