1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. shantokh@gmail.com : Sharif Azibur Rahman : Sharif Azibur Rahman

শিক্ষা অফিসের উদাসীনতায় মণিরামপুরে ২৬৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন অকেজো, লাখ টাকা হাতিয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে শুভ

  • প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৭১ বার সংবাদটি পাঠিত
শিক্ষা অফিসের উদাসীনতায় মণিরামপুরে ২৬৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন অকেজো, লাখ টাকা হাতিয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে শুভ

তাজাম্মূল হুসাইন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্কুলের উপস্থিতি নিশ্চিত ও তদারকি করার লক্ষ্যে মণিরামপুর উপজেলার ২৬৭ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয় ও স্থাপন করলেও সেটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বাক্সবন্দী এই বায়োমেট্রিক মেশিন, অধিকাংশ স্কুলে পড়ে আছে অকেজো মেশিন আর কিছু প্রতিষ্ঠানে দেখা মেলেনি এই মেশিনের। এতে প্রায় ৫০ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কার্যক্রম আলোর মুখই দেখেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্লিপ প্রকল্প থেকে যন্ত্রটি কেনা বাবদ ব্যয় নির্বাহ করা হয় এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বে যন্ত্রটি কিনে নেয়। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন পত্রের মাধ্যমে একাধিক বার নির্দেশনা দেয়া হয় মাঠপর্যায়ে। মণিরামপুর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে উপজেলার ২৬৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপের বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরার বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য প্রায় ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো। যেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাচাই করে মেশিন ক্রয়ের কথা থাকলেও শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে মেশিন ক্রয় করেছেন সবাই। সেই সময়ে শিক্ষা অফিসের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। তবে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় সংশিষ্ট কোন কর্মকর্তা সঠিক ভাবে বলতে পারেনি। এই বায়োমেট্রিক মেশিন গুলো লাগানোর কিছুদিন পেরিয়ে গেলেই নষ্ট হয়ে যায়। এই যন্ত্রটি চালু রাখতে প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট কানেকশন ও কম্পিউটার। বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেট সংযোগ ও কম্পিউটারের অপ্রতুলতায় ভেস্তে যায় এই কার্যক্রম। এখন ব্যবহার না হতে হতে রীতিমতো জঞ্জালে পরিণত হয়েছে মেশিনগুলো। অন্যদিকে এবিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, প্রধান শিক্ষকরা অনেক সময় শিক্ষা অফিসে, বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফলে বায়োমেট্রিক হাজিরা থাকলে তাদের এসব অনুষ্ঠানে যেতে সমস্যা হয়। এদিকে বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৯ হাজার টাকার বিনিময়ে যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি বিদ্যালয়ে লাগানো হয়েছে তার সঠিক বাজারমূল্য আনুষঙ্গিক খরচসহ সাড়ে ৫-৬ হাজার টাকা। প্রতি মেশিন ক্রয়ে ১৪-১৫ হাজার টাকা অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ধলিগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিনাটোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মণিরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাকোবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকোশপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় বায়োমেট্রিক মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে অকেজো মেশিন ক্রয়গুলো সংস্কারে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার আগে এই মেশিন ক্রয় করা হলেও ব্যবহারে তেমন তদারকি না থাকায় ব্যবহার করা হয় না। অন্যদিকে অকেজো মেশিন ক্রয়গুলো সংস্কারে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। এই বায়োমেট্রিক মেশিন স্থাপনের উদ্দেশ্য ফলে বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে উপস্থিত ও ছুটির সময় শিক্ষকরা হাজিরা মেশিনে আঙুলের ছাপ দেবেন। শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়ের এই মেশিন কিছুদিন যেতেই বিকল হয় আর অন্যগুলো নেই কোনো ব্যবহার। শিক্ষা অফিস ও শিক্ষকদের উদাসীনতায় এই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি বলে দাবি করেছে অভিভাবক ও সুধীজনরা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোরের ইভেন্টটেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে এ বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপনার জন্য ক্রয় করা হয়। যার ঠিকাদারি ছিলেন সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য শুভ। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতার দাপটে তার ছেলে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য শুভ হাজিরা বায়োমেট্রিক মেশিনে ক্রয় ও স্থাপনায় লাখ টাকা নিয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিপূর্বে বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো স্থাপন করা হয়। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বন্ধ করে রেখেছে। মেশিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি জানলাম। শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে দ্রুতই সমাধান করা হবে।

সংবাদটি সেয়ার করে পাশে থাকুন

একই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved  2024
Design by JIT SOLUTION