কণ্ঠ ডেস্ক
ইউক্রেনীয়দের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের জন্য ইউক্রেন সফরে গেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা ও ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কাজা ক্যালাস। রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন তারা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থনের বার্তা পাঠাতে তারা নিজেদের নতুন দায়িত্বের প্রথম দিনেই এই সফর করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দ্রুত অগ্রগতি করছে রাশিয়া। কিয়েভ যখন রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রাণপণ লড়ছে এবং মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে তখন এই সফরের খবরটি সামনে এলো।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবিসহ ক্যালাস ও ইইউ বর্ধিতকরণ প্রধান মার্তা কোসের ট্রেন ভ্রমণের একটি ছবি প্রকাশ করে কস্তা লিখেছেন, ‘যুদ্ধের প্রথম দিন থেকে ইইউ ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ম্যান্ডেটের প্রথম দিন থেকেই আমরা ইউক্রেনের জনগণের প্রতি অটুট সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে ক্যালাস ও কস্তা উভয়ই ইউক্রেনের শক্তিশালী সমর্থক। তবে কেউই ইইউ-এর সদস্য দেশের সরকারগুলোর সমর্থনের প্রয়োজনে আরও সাহায্যের নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। ইইউ বলেছে, তাদের প্রতিষ্ঠান ও সদস্য দেশগুলো যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের সাহায্যে প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি অনিশ্চিত থেকে যায়, বিশেষ করে ট্রাম্প যদি মার্কিন সমর্থন হ্রাস করেন। কিয়েভের জন্য সাহায্যের মাত্রার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় এলে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চাইবেন। তবে ঠিক কীভাবে তা উল্লেখ করেননি। যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর সেনারা শেষ পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল ডনবাস দখলের অভিযানে গ্রামের পর গ্রাম দখল করে চলেছে। এদিকে, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এক্সে ক্যালাস বলেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সফরে আমার বার্তাটি পরিষ্কার: ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় চায়। আর এর জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করব।’ রুশ সীমান্তবর্তী এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়ার সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের একজন ক্যালাস। সোভিয়েত আমলের স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করায় চলতি বছর মস্কো তাকে একটি ওয়ান্টেড তালিকায় রেখেছে। পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কস্তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাতীয় নেতাদের কাজ সমন্বয় করার ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে তাদের শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ব্রাসেলসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এক হাজারেরও বেশি দিনের পর, সবাই শান্তির জন্য আকুল আকাঙ্খা করছে। ‘বিশেষ করে যুদ্ধরত ও বীর ইউক্রেনীয় জনগণ।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘শান্তি মানে আত্মসমর্পণ হতে পারে না। শান্তি অবশ্যই আক্রমণকারীকে পুরস্কৃত করবে না।’