সাতক্ষীরার দেবহাটার মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। মোস্তাফিজুর দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আনিসুর রহমান বিশ্বাস নামের এক যাত্রা শিল্পী । অভিযোগ স‚ত্রে জানা যায় বিবাদী মোস্তাফিজুর গত ১২ বছর প‚র্বে আমার স্ত্রীকে বিবাহ করার জন্য আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেছিলো। আমার স্ত্রী ও আমি বিবাদী মোস্তাফিজকে কে আমাদের সাথে যোগাযোগ করিতে নিষেধ করি । কিন্তু বিবাদী আমাকে ও আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে। গত এক বছর প‚র্বে মোস্তাফিজুর তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে আমাকে এবং আমার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালায় চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সেই অপপ্রচার একাধিক ব্যক্তিকে ট্যাগ করে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করে চলেছে। তাছাড়া সে আমাকে এখনো প্রতিনিয়ত প্রাণনাসের হুমকি ধামকি ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আমি বিবাদী মোস্তাফিজুরকে বারবার হুমকি ধামকি থেকে বিরতি থাকতে অনুরোধ করি, কিন্তু মোস্তাফিজুর তাতে কর্ণপাত করেনি ।সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে আমাকেও আমার পরিবারকে আবারো প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। তার হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। শুধু তাই নয় মুস্তাফিজুর আমাকে আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চাপ সৃষ্টি করে । আমি আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলে মোস্তাফিজ তাকে বিয়ে করবে বলে কুপ্রস্তাব দেয় ।বাদী আরও জানায় মোস্তাফিজুর একজন উগ্র, চরিত্রহীন ও প্রতারক, সে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত।এছাড়া মোস্তাফিজুর বিগত দিনে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।বিবাদী ইতিপ‚র্বে একাধিক বিয়ে করে নারীদের জীবন বিপন্ন করেছেন। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউপি চেয়ারম্যান একাধিকবার সালিশ ও করেছেন । সালিশের মাধ্যমে মোস্তাফিজুরকে এলাকা থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই থেকে এলাকা ছেডে অন্যত্র বসবাস করে আসছিল মোস্তাফিজুর। বাদী আরও জানায় বিবাদী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে তার নামে অপপ্রচার ও অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি গত ০৭/০১/২০২৬তারিখে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন বিবাদী মোস্তাফিজুর তার ব্যক্তিগত ওসংসার জীবন নষ্ট করেছেন। এখনও তাকে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা মামলা জড়ানোর হুমকি প্রদান করে চলেছে। বাদী আরও বলেন সাতক্ষীরায় এক সময়ের ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন ‘বেস্ট টিম’ নামের কথিত অ্যাডমিন ছিলেন এই মোস্তাফিজুর । সেখান থেকেই জড়িয়ে পড়ে চাঁদাবাজি সহ বিভিন অপকর্মে । তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সাতক্ষীরাবাসী। তৎকালীন সময়ে মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দÐবিধি, ১৮৬০ ধারায় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল।নথি ও আদালতের আদেশে পরিচালিত ডোপ টেস্টে তার মাদকাসক্তি প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তার হয় মোস্তাফিজুর । দীর্ঘদিন কারাভোগ ও করেছেন ।কারাভোগের পরে এলাকায় এসে আবারো চাঁদাবাজির নতুন কৌশল শুরু করেছেন । নিজেকে বড়মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অবাধে চলাফেরা করেছে। যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে । তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য মাহফুজা সুলতানা রুবি বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি (মামলা নং-১) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় আদালতের নির্দেশে ডোপ টেস্ট করানো হলে তার শরীরে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া যায়, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে উক্ত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি প‚র্বপরিকল্পিতভাবে অপরাধম‚লক অনধিকার প্রবেশ, সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেন। এ সংক্রান্ত ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ৩১ আগস্ট সদর থানায় মামলা নং-৭৮ দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর ও তার সহযোগীরা ঘরের তালা ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, জমির বন্দকি দলিল ও গুরুত্বপ‚র্ণ দলিলাদি জোরপ‚র্বক ছিনিয়ে নেয়, যা দÐবিধির ৩৯৫/৪৪৭/৪২৭ ধারাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে।মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় জনগণ পরানদহা বাজারে মানববন্ধন কর্মস‚চি পালন করেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে মাদক সেবন সংক্রান্ত ভিডিও ও অভিযোগসম‚হ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পুনরায় পরিচালিত ডোপ টেস্টেও তার মাদকাসক্তি প্রমাণিত হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বর্তমানে মোস্তাফিজুর নিজেকে “সাংবাদিক” পরিচয়ে উপস্থাপন করে সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন—যা প্রতারণা, ছদ্মবেশ ধারণ ও চাঁদাবাজির অপরাধের শামিল। স্থানীয় ম‚লধারার সাংবাদিকরা দাবি করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজ কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত নন, তার সংবাদ লেখার ন্য‚নতম যোগ্যতা নেই, এবং তিনি ম‚লত ফেসবুকভিত্তিক ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করেন।সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেন,এ ধরনের ভুয়া ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়ালে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হয় এবং পুরো পেশাটি জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও নাগরিক সমাজ মনে করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর দ্রæত তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট প্রদান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে সংঘটিত অপরাধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । এ ব্যাপারে মোস্তাফিজুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি।










