বগুড়ার সাতটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন সাবেক পাঁচজন সংসদ-সদস্য (এমপি)। বিগত নির্বাচনে তারা হলফনামায় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কার্যক্রম মূলত টিআর, কাবিখা, কাবিটা, রাস্তা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তারা জনগণের বড় সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবা, বড় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের দিকে সেভাবে নজর দিতে পারেননি। তবে এবারের নির্বাচনে সব প্রার্থীই তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। আশ্বাস দিয়েছেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির। প্রার্থীরা নির্বাচনের পর তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবেন বলে আশা করছেন। ওইসব প্রার্থীরা হলেন : বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মো. মোশারফ হোসেন এবং বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০০১ সালে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন; অনেক সফলও হয়েছেন। তিনি নির্বাচনি এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ, বাঙালি ও যমুনা নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং রাস্তা পাকাকরণের কাজ বেশির ভাগ শেষ করেছেন। এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এলাকার উন্নয়নে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে এবার তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কাজ করবেন।
বগুড়া-২ আসনে চতুর্থবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি আওয়ামী লীগ জোট থেকে ২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন। তিনি বিগত দিনে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন। তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় নদী খনন, নদীর তীর উন্নয়ন ও সবুজ বনায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা তিনি এবারের হলফনামায় স্বীকার করেছেন। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৫ ভাগ পূরণ করতে পেরেছেন। তবে তিনি শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। আগামী দিনে জিন্নাহ তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দিবেন।
একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান ১৯৯১ সালে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি দাবি করেন, তার প্রতিশ্রুতির সবই বাস্তবায়ন করেছেন। তবে তার কাজের পরিধি এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার নির্বাচিত হলে তিনি অন্যান্য কাজের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের দিকে বেশি নজর দিবেন।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তে ২০২২ সালে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেছেন, এলাকার কাঁচা রাস্তা পাকা, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সফল হয়েছেন। অবকাঠামোর বাইরে নির্বাচনি এলাকা কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে রোধে সক্রিয়া ভূমিকা পালন করেছেন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তরুণদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নানামুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।
বগুড়া-৫ আসনে বিএনপি থেকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনবারের এমপি ছিলেন। তিনি তার দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুত নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ এবং টিআর, কাবিখা বরাদ্দের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করেছেন। গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবারে নির্বাচিত হলে বেকারমুক্ত ও দারিদ্র দূরীকরণে তরুণদের নিয়ে কাজ করবেন।
সূত্র: যুগান্তর












