মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় মোহনপুর গ্রামে এক কথিত জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে পারিবারিক জমি দখল ও তেঁতুল গাছ থেকে ফল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৮ মার্চ) সকালে অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তার চাচার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় জমিতে থাকা একটি তেঁতুল গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মোঃ আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ তাসনিমুল হাসান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি এলাকায় মোহনপুর ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি ঋণদান সমিতি পরিচালনা করেন। এক সময় তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মোহনপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং বর্তমানে এলাকায় নিজেকে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।বাদী মোঃ তাসনিমুল হাসান বলেন, আমাদের পরিবারের লাগানো ওই তেঁতুল গাছ থেকে প্রায় ২৬ বছর ধরে আমরা ফল খেয়ে আসছি। গাছটির তেঁতুল একটি ব্যাবসায়ীর কাছে ৮০০০ টাকা বিক্রয় করা ছিলো। জমিটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে জমি ভাগাভাগির কথা বলা হলেও মোঃ রফিকুল ইসলাম তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। হঠাৎ করে তিনি লোকজন নিয়ে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন এবং গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে নিয়ে যান। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,তেঁতুল গাছটি আমাদের তিন শরীকের জমির মধ্যে পড়ে, যেখানে একজন শরীক জমি বিক্রি করে দেয়,কিন্তু বাদীরা জোর দখল করে এতোদিন তেঁতুল বিক্রি করে খেয়েছে, আমার জমির তেঁতুল আমি বিক্রি করেছি। আর তেঁতুল গাছটা এমনি হয়েছে কারোর ব্যক্তিগত লাগানো না, আর আমি গত পরশুদিন তেঁতুল পেড়েছি এটি সঠিক, সেখান থেকে অর্ধেক তেঁতুল যে পেড়েছিল তাকে দিয়েছি। এছাড়াও রফিকুল আরো বলেন, তেতুল গাছ এতোদিন তাসনিমুল হাসানরা দখল করে খেতো। গাছটা আমাদের এখন আমরা তেঁতুল পেরে ভাগ করে নিয়েছি। তবে খোঁজ নিয়ে যানা যায় রফিকুল ইসলাম ব্যাতিত কোনো শরীক এই তেঁতুলের ভাগ নেই নাই। এছাড়াও অন্যান্য শরীকরা বলেন, আমাদের পারিবারিক জমি ভাগাভাগি হয়নি যার কারণে কেউ বিক্রয় করার সুযোগ নেই। এই গাছটি তাসনিমুল হাসানদের লাগানো। অভিযুক্ত কথিত জামায়াত নেতার সম্পর্কে মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, এ বিষয় আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি, আপনার থেকে বিষয় টি জেনেছি, তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন মাহমুদ বলেন, ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক মধ্যে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।













