বাংলাদেশ || ০৭ মার্চ ২০২৬

‎‎বাড়তি টাকা না দিলে মিলছে না সেবা, মারধরের হুমকির অভিযোগ

নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পিওনের দাপট

নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পিওনের দাপট

(পিওন) আশিকুর রহমান (আশিক)

কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩১, ৬ মার্চ ২০২৬

‎স্টাফ রিপোর্টার,মণিরামপুর
‎যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (পিওন) আশিকুর রহমান (আশিক)-এর বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি, দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হুরাইরা বৃহস্পতিবার ২৪১ মৌজার ৬৬৮৬ নম্বর দাগের একটি দাখিলা কাটার জন্য নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অফিসিয়াল খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন অফিস সহকারী (পিওন) আশিকুর রহমান। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে সরাসরি অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগী আবু হুরাইরার অভিযোগ, একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আশিকুর রহমান এবং আঙুল উঁচিয়ে দাম্ভিক ভঙ্গিতে বলেন, “এই অফিসে আমি যা বলবো তাই হবে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে অফিস থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং মারধরের জন্যও উদ্ধত হন ওই পিওন।‎ঘটনার খবর দ্রুত স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হন। অফিসিয়াল ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা যেন অনেকের কাছে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি সরকারি অফিসে একজন পিওনের এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। সরকারি সেবা নিতে এসে যদি সাধারণ মানুষ অপমান ও হয়রানির শিকার হন, তাহলে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।‎এ বিষয়ে নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদাত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি এসিল্যান্ড স্যারকে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”তবে স্থানীয়রা অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।‎স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কি একজন পিওনের কাছে এভাবে অপমানিত হবেন? আর কতদিন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেবা নিতে হবে সাধারণ মানুষকে? অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।