1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. shantokh@gmail.com : Sharif Azibur Rahman : Sharif Azibur Rahman

যশোরে নতুন বছরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৮২ বার সংবাদটি পাঠিত
যশোরে নতুন বছরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

মোঃ শফিকুল ইসলাম,যশোর

যশোরে বই বিতরণ হয়েছে মাধ্যমিকে ৪.১৭ শতাংশ ও প্রাথমিকে ২৫.৮২ শতাংশ চাহিদা রয়েছে ৬১ লাখ, এসেছে সাড়ে ৫ লাখ বই, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নতুন বছরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ না নিয়েই মন খারাপ করে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে। যশোরে ১৫ বছর পর বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার-২০২৫ সালের প্রথম দিনে যশোর জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিতরণ হয়েছে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার বই। এর বিপরীতে যশোরে চাহিদা রয়েছে ৬১ লাখ বই। এসব বই মুদ্রণে বিলম্ব হওয়ায় জেলার ১৯শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো পৌছায়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে দেশে খ্রিস্টিয় বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব শুরু হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ক্লাসের বই বিতরণ করা হতো। নতুন ক্লাসের নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে যেতো প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। গত ১৫ বছর পর এবার সেই উৎসব খানিকটা ম্লান হয়ে গেছে। এদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৎ সামান্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। দু’একটি ক্লাস বাদে কোন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পায়নি। তাও যারা পেয়েছে তাদেরকে তিনটি বা চারটি করে বই হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এতে তাদের আশা পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থীরা মন খারাপ করেই বাড়ি ফিরে গেছে। যশোর শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, যশোর জেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট এক হাজার ৮৭৫ টি। এরমধ্যে প্রাথমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১২শ’ ৮৯ টি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৮৬ টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৬১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মোট চাহিদা রয়েছে ৪৮ লাখ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত নতুন বইয়ের মোট চাহিদা রয়েছে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫০টি। এ হিসেবে জেলার প্রায় ১৯শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মোট বইয়ের প্রয়োজন ৬১ লাখ ৩৬ হাজার পিস। এর বিপরীতে মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোরে সরকারি বই এসেছে মাত্র পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার পিস। যা মোট চাহিদার ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব বইয়ের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে এসেছে দুই লাখ বই। যা মোট চাহিদার ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে এসেছে তিন লাখ ৪৫ হাজার পিস বই। যা মোট চাহিদার ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। এসব বইয়ের মধ্যে ছিল চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান। যা ওই দুটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাকিরা শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরে গেছে। শিক্ষা বিভাগ বলেছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যশোরে সব ক্লাসের নতুন বই পৌছে যাবে। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে যাবে। এদিকে, বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব না হলেও জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। জেলার প্রায় ১৯শ’ প্রতিষ্ঠানই খোলা ছিল ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে। এদিন যশোর জিলা স্কুলে চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে ছিল বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান। একইভাবে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও অনুরুপ বই বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন বলেন, এদিন তারা শিক্ষার্থীদের সব ক্লাসের বই তুলে দিতে পারেননি। চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণীর চারটি বই বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বই প্রদান করেছেন। বই হাতে পেলে সাথে সাথেই তারা শিক্ষার্থীদের প্রদান করবেন বলে জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৫ হাজার বই বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বই রয়েছে। বাকি বিভিন্ন ক্লাসের বই দ্রুততম সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে পৌছে দেয়া হবে। এসব ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন বলেন, এবার মুদ্রণজনিত কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব বই পৌছাতে দেরি হচ্ছে। জেলায় ৫৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৪৮ লাখ, এর বিপরীতে তারা পেয়েছে দুই লাখ বই। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তারা সব শ্রেণীর সব বই পেয়ে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সংবাদটি সেয়ার করে পাশে থাকুন

একই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved  2024
Design by JIT SOLUTION