1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. shantokh@gmail.com : Sharif Azibur Rahman : Sharif Azibur Rahman

কলারোয়া উপজেলায় অদম্য নারী পুরষ্কার-২০২৪ প্রাপ্তদের জীবন বৃত্তান্ত

  • প্রকাশের সময় রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৫৭ বার সংবাদটি পাঠিত
কলারোয়া উপজেলায় অদম্য নারী পুরষ্কার-২০২৪ প্রাপ্তদের জীবন বৃত্তান্ত

দেলোয়ার হোসেন, কলারোয়া(সাতক্ষীরা)

কলারোয়া উপজেলায় অদম্য নারী পুরষ্কার-২০২৪ প্রাপ্তদের জীবন বৃত্তান্ত। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী হাটুনি গ্রামের মোছাঃ মাহফুজা খাতুন। বাবা মার অভাবের সংসারে দেড় বছর বয়সে পিতৃহীন। অভাব অনটনের মধ্যে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ না-হতেই ২০২০ সালে বিবাহ হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবীতে তার উপর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন নেমে আসে। স্বামীর সংসারে থাকা কালীন তার স্বামী আরো ৩টা বিবাহ করে। তাকে ঘরছাড়া করার জন্য স্বামী নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে এক পর্যায়ে তার অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে গেলে স্বামী চিকিৎসা না করে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তার মা লোকের নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করায়। এর পর স্বামী তাকে হয়রানি করার জন্য মামলা দেয়। সে নতুন করে বাচার জন্য সেলাই সেন্টারে কাজ শুরু করে। এর পাশাপাশি ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে যে অর্থ আসে তাতে তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। বর্তমারে সে একটি সেলাই সেন্টারের ইনচার্য এর দায়িত্বে আছে, সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করছে। সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুনভাবে বাঁচার প্রেরণা পেয়েছে। কোন নির্যাতন তার জীবনের গতি পথ রোধ করতে পারেনি।
শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী
শ্রীরামপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কন্যা হুমাইরা ইয়াসমিন। খুব গরীব পরিবারের মেয়ে। বাবা দিন মজুর। সংসারের হাজারো অভাব অনটনের মধ্যে পড়া লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন । অদম্য মনোবল নিয়ে অধ্যায়ন করেছে। শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়ার খরচ জুগিয়েছে। ফলে পিএসসি ও জিএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এসএসসি ও এইচ এসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পায়।অভাবের সংসার তার পরে হুমাইয়া থেমে থাকেনি গরীর অসহায় পিতার পরিশ্রমের কথা মাথায় রেখে পড়ালেখার মনোনিবেশ করে। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী মেডিকেলে চান্স পায়। ভর্তি হওয়ার টাকা না থাকায় কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। ফলে মেডিকেলে ভর্তি হতে খুব বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। এই অধ্যম্য নানা প্রতিকূলতার মাঝে স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় ছিলেন। শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেশের মানুষের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হুমাইরা।
সফল জননী নারী
ঝিকরা গ্রামের মোঃ আকবর আলীর সহধর্মিনী শাহনাজ পারভীন। স্বামী ছোট ব্যবসায়ী। অনেক কষ্ট করে এক মাত্র পুত্রকে লেখা পড়া শিখিয়েছেন। ছেলের নাম আদনান মাহমুদ। সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তিপায়। এসএসসি ও এইচ এসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস অধিকার করে। পরবর্তীতে বুয়েটে ম্যাকানিক্যাল ইনজিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়। সেখান থেকে বিমান বাহিনীতে চান্স পায় এবং প্রশিক্ষণ পাইলট গ্রাজুয়েশন শেষ করে। ছেলে বিমান বাহিনী কর্মরত। বর্তমানে শাহনাজ পারভীন খুব সুখী।
অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী
শিউলী পারভীন, পিতা- আব্দুল গফুর,কলারোয়া উপজেলার ঝিকরা গ্রামের বাসিন্দা। বেকার স্বামীর অস্বচ্ছল সংসারে স্বচ্ছলতা আনার জন্য ব্যবসা শুরু করেন। মালামাল ঢাকা থেকে ক্রয় করে ফেরি করে এলাকায় বিক্রি করতেন। প্রথমে অফ লাইনে পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। এখন ব্যবসা খুব ভালো চলছে। আগের বেকারত্ব ও দূর্দশা কাটিয়ে খুব ভালো আছি।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী
পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে নারী নেত্রীত্ব লড়াইকারি শাকদাহ গ্রামের মৃত মাজেদ খানের কন্যা মোছাঃ শাইলা জাহান। সকল বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে নিজের ও সমাজের লোকদের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য নারী সংগঠন তৈরী করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রেখে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে ও অসংখ্য অ্স্বচ্ছল মহিলাকে বাচার পথ দেখিয়েছেন। সমাজে নানা ধরনের অন্যায় অসংগতি দুর করতে সফল উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করে লাভবান হন এবং নিজেরা পুঁজি গড়ে তোলেন। তার সংগঠনের বর্তমান সদস্যা সংখ্যা ৪০ জন। তিনি তার সদস্যদের নিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করেন। দরিদ্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য স্বুল প্রতিষ্ঠা, হস্ত শিল্প,স্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রকল্প, নকশি সেলাই, দর্জি প্রশিক্ষণ গাভী পালন, নারী উদ্যোক্তা তৈরী তার প্রকল্পাধীন।

সংবাদটি সেয়ার করে পাশে থাকুন

একই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved  2024
Design by JIT SOLUTION