1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. shantokh@gmail.com : Sharif Azibur Rahman : Sharif Azibur Rahman

ঝিকরগাছার গদখালির ফুলের রাজধানীর সেই শের আলী সরদারের চিরবিদায়

  • প্রকাশের সময় বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৭০ বার সংবাদটি পাঠিত
ঝিকরগাছার গদখালির ফুলের রাজধানীর সেই শের আলী সরদারের চিরবিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছার গদখালির প্রথম ফুল চাষের উদ্যোক্তাদের অন্যতম শের আলী সরদার (৭৫) আর নেই। বুধবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপনন সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, শের আলী সরদার ফুল চাষের প্রথম উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। শের আলীর বাবা আবদুর রহমান সরদারের নার্সারি ছিল। ফলদ আর বনজ গাছের চারাই বেশি উৎপাদন করতেন রহমান সরদার। বাবার নার্সারিতে কাজ করতেন শের আলীও। ১৯৮২ সালের এক দিন বিকেলবেলা। শের আলী নার্সারিতে ছিলেন। এক পথচারী পানি খেতে চাইলেন। শের আলী তাঁকে পানি এনে দিলেন। পথচারীর হাতে ছিল কিছু রজনীগন্ধা। শের আলীর চোখ এড়াল না। কথায় কথায় জানলেন পথচারীর নাম নূর ইসলাম। যশোর সদরে তাঁর বাড়ি। সেই নূর ইসলামের মারফত শের আলী আড়াই মণ রজনীগন্ধার বীজ পেলেন। নিজের ৩০ শতক জমিতে লাগালেন সব বীজ। অনেকে বলল, বেশি ভালো কিছু হবে না, শুধু টাকা নষ্ট; কিন্তু শের আলী তখন স্বপ্ন দেখছেন—পুরো দেশ ভরে গেছে ফুলে ফুলে। যাহোক রজনীগন্ধার ভালো ফলন পেলেন। তারপর এমন সব বীজ জোগাড় করলেন যেসব দেশের মানুষ চিনতই না। ঢাকায় তখন রজনীগন্ধা বেশি পাওয়া যেত না। চাঁপা, রঙ্গন বা কাঠগোলাপ কিছু বিক্রি হতো। ফুলের বাজারও বেশি বড় ছিল না। সাধারণত পূজা-পার্বণে লোকে ফুল ব্যবহার করত। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি মালঞ্চ নামে শাহবাগে একটি ফুলের দোকান উদ্বোধন করলেন। দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ফুলের দোকান সেটি। শের আলীর রজনীগন্ধা দিয়ে দোকানটির যাত্রা শুরু। শের আলী তত দিনে গ্লাডিওলাস, জারবার ইত্যাদি ফুল উৎপাদনেও সফল হয়েছেন। যশোর সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গদখালী। গদখালী থেকে আরো কিছুদূরে পানি সারা গ্রাম। গাঁয়ের সবাই কমবেশি ফুল চাষ করেন। পানি সারার পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকরাও ফুল চাষ করে। প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়। কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ হাজার লোকের। এ ছাড়া ফুল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরো ৫০ হাজার লোক। গদখালীর ফুল ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেটসহ ৫৫টি জেলায় যায়। যায় বিদেশেও। যশোর জেলা প্রশাসন হিসাব দিচ্ছে, ১২০ কোটি পিস ফুল উৎপাদিত হয়। বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার কারবার। ফুল চাষ করে সচ্ছল হয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয় গদখালীতে। শের আলীর দেখানো পথেই এ সচ্ছলতা। তখন বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ছিলেন ড্যান ডাব্লিউ মজিনা। শের আলীর নার্সারি দেখতে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘শের আলীর ফুল বিশ্বমানের।’ পৃথিবীর ২০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন শের আলী। জীবনে কোনো দিন ফুলের বীজ বিক্রি করেননি। অথচ এ থেকে ভালো উপার্জনের সুযোগ ছিল। বললেন, ‘আমি জীবনে কখনো ফুলের বীজ বিক্রি করিনি। যতটা পেরেছি বিতরণ করেছি।’ তিনি স্বপ্ন দেখেন, আমেরিকায় গিয়ে ফুল চাষ করে জয় করা সম্ভব।

সংবাদটি সেয়ার করে পাশে থাকুন

একই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved  2024
Design by JIT SOLUTION