যশোর-১ (শার্শা–বেনাপোল) আসনে বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক ও জনপ্রিয় নেতা মফিকুল ইসলাম তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিলের খবরে এক নজিরবিহীন শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হয়েছে পুরো জনপদে। সোমবার বিকেলে শার্শা বল্ডফিল্ড ময়দানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কান্না, ক্ষোভ আর বঞ্চনার আর্তনাদ যেন এক বিশাল শোকসভায় রূপ নেয়। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-কিশোর নির্বিশেষে সবার একটাই দাবি—“তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দিন।” বিকেলে মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি সভাস্থলে পৌঁছালে প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত জনতা। অনেককে তাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়। এসময় তৃপ্তি নিজেও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলবো।” পরে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবে মাঠের মানুষের চোখে-মুখে ছিল গভীর হতাশা।গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর টানা দেড় মাস শার্শার গ্রাম থেকে শহরে ধানের শীষের জোয়ার তৈরি করেছিলেন মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি। কেন্দ্রীয় বিএনপির অফিসিয়াল পেজেও তার প্রচারণার খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল। কিন্তু ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেওয়ায় পুরো নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে যায়। তৃণমূলের দাবি, চারজন প্রার্থীর মধ্যে তৃপ্তিই ছিলেন সবচেয়ে সুসংগঠিত এবং জনপ্রিয়।মনোনয়ন পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তৃপ্তি ইতোমধ্যে পুরো এলাকা গুছিয়ে এনেছিলেন। এখন এই ‘হেভিওয়েট’ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ফলে সৃষ্ট কোন্দল বা শূন্যতার রাজনৈতিক ফায়দা জামায়াতে ইসলামী নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত বলেন, “শার্শা ও বেনাপোলের মানুষের সাথে মফিকুল ইসলাম তৃপ্তির আত্মিক সম্পর্ক। সাধারণ মানুষের আবেগ ও ভোটের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে হাইকমান্ডের উচিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।” উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, “এই আসনে তৃপ্তির কোনো বিকল্প নেই। হঠাৎ তাকে বাদ দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”এখন শার্শা-বেনাপোলবাসীর একটাই অপেক্ষা—তৃণমূলের এই কান্না আর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন কি বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে দেখা যাবে?










